রসায়নে নোবেল পেল দুই নারী বিজ্ঞানী

জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে ডিএনএ সম্পাদনার ‘সূক্ষ্মতম’ কৌশল উদ্ভাবনের স্বীকৃতিতে চলতি বছর রসায়ন শাস্ত্রের নোবেল পেয়েছেন দুই বিজ্ঞানী।

রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস বুধবার এ পুরস্কারের জন্য জার্মানির গবেষক ইমানুয়েল কার্পেন্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার এ ডাউডনার নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটি বলেছে, এ দুই গবেষকের উদ্ভাবিত সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯ পদ্ধতি নিখুঁতভাবে জিনোম সম্পাদনার কাজটি সম্ভব করেছে, যার পথ ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি তৈরি হচ্ছে, আশা জাগছে জন্মসূত্রে পাওয়া বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের।

এবারের নোবেল পুরস্কারের এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন ইমানুয়েল কার্পেন্টার ও জেনিফার এ ডাউডনা।

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটিয়ে মার্কিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ ও এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম এবং জাপানের আকিরা ইয়োশিনো গতবছর রসায়ন শাস্ত্রের নোবেল পান।

হরিরামপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ৩

মোঃ নুরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামী জামিরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে হরিরামপুর থানা পুলিশ।

বুধবার রাতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুঈদ চৌধুরী জানান, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে ওই শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি পুলিশের অজানা ছিলো। তিনদিন পর মঙ্গলবার বিকালে শিশুটির বাবা থানায় মামলা দাযের করেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নটাখোলা এলাকা থেকে জামিরের ভাই কামাল ও মা জয়গুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূল আসামী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার অভিযানে নামে হরিরামপুর থানা পুলিশ। পুলিশের অভিযানে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে শেখ জামিরকেও গ্রেফতার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে তোলা হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চল নটাখোলা গ্রামে ৫ বছরের ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতিবেশি শেখ ছামিদের ছেলে শেখ জামির তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে কৌশলে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ওই শিশুর হাতে ৫ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে

সিলেটের জৈন্তাপুরে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাইলিং কাজের উদ্বোধন

বাবুল আহমেদ, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার ‘রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল এন্ড কলেজ’ সংলগ্ন স্থানে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বন্যায় পানি বন্ধী স্থানীয় জনগন-কে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করতে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাইলিং কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় রাংপানি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাইলিং কাজ উদ্বোধন করা হয়। বন্যা প্রবণ ও নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

পাইলিং কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব কামাল আহমদ, উপজেলা নিবার্হী অফিসার জনাব নাহিদা পারভীন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিক উদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল আলম সাকিব, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াররম্যান মো: এখলাছুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ, জৈন্তাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সালাউদ্দিন, জেলা ত্রান অফিসের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: নূরে আলম, জৈন্তাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, জেলার ত্রাণ অফিসের সহকারী বিজয় কান্তি দাস, ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন চন্দ্র বিশ্বাস ও জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম।

চারতলা বিশিষ্ট বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ৪শ লোক ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বন্যা প্রবণ ও নদী ভাঙ্গন এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প-২০২০-২০২১অর্থ বৎসরের জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন দীঘিনালা সেনা জোন

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন দীঘিনালা সেনা জোন।উপজেলার ১নং মেরুং ইউনিয়ন,২ নং ওয়ার্ডের মোঃ চান মিয়ার ছেলে মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২৭) দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগ ছিলেন।

৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দীঘিনালা জোন কর্তৃক অসহায় হতদরিদ্র অসুস্থ ব্যক্তি কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০০০০( দশ হাজার)টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

দীঘিনালা জোনের জোনাল ষ্টাফ অফিসার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।এসময় তিনি বলেন,দীঘিনালা(সেনানিবাস) জোন সব সময় এই উপজেলার স্থানীয় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের যেকোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা ও অনুদান প্রদান পূর্বেও করেছে, বর্তমানে করছে এবং ভবিষ্যতেও তা জারি থাকবে।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভাগ্য সুপ্রসন্ন উন্নয়ন অগ্রগতি কে আরও ধীর ভাবে মানুষের সান্নিধ্যে থাকবে বলে বিশ্বাসী।

পূজা মন্ডবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে:ওসি মোঃ ওবায়দুর রহমান


স্টাফ রিপোর্টার, মেহেরপুরঃ
মেহেরপুরের গাংনীতে আসন্ন শারদীয় দূর্গাৎসব উপলক্ষে আইনশৃংখলা বিষয়ক সভা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকালে গাংনী থানা চত্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাংনী থানার ওসি মো: ওবাইদুর রহমান। এসময় ওসি তদন্ত মো: সাজেদুল ইসলাম,পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী ধীরেন দাস,সাধারন সম্পাদক শ্রী শুশান্ত কুমার পাত্র সহ বিভিন্ন পূজা মন্ডবের সভাপতি সাধারন সম্পাদক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শান্তিপূর্ন পরিবেশে পূজা উৎযাপনে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে গাংনী থানার ওসি মো: ওবাইদুর রহমান বলেন প্রতিটা পূজা মন্ডবে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। করোনা দূর্যোগের কারনে সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে উৎসব পালনের আহবান জানান তিনি।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের আলোক প্রজ্জ্বলন

হাসান সিকদার, টাঙ্গাইল: সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আলোক প্রজ্জ্বলন করেছে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় শহরের নিরালা মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন- জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীরুল ইসলাম হিমেল, শফিউল আলম মুকুল প্রমুখ।

এ সময় ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতা- কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন- ধর্ষকরা সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম প্রাণী। তাদের কোনো দল নেই। এমনি তাদের কোন পরিবার নেই। ধর্ষক যে কেউই হোক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

পার্বতীপুরে হাত-পা বাধা উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা তরুণীর পরিচয় মিলেছে, গ্রেপ্তার-৩


আনোয়ারুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয় তরুনী লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এছাড়াও তার মৃত্যুর জন্য দায়ী কথিত প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ।

হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আনিছুল রহমান (২৮), অটোচালক রাজ মিয়া (২৫) ও আশিকুজ্জামান (৪০) কে অাজ বুধবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অাজ বুধবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারাক্তিমুলক জবানবন্দি নেওয়ার জন্য দিনাজপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করা হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার গ্রাম পুলিশ আব্রাহাম মিনজী পার্বতীপুর মডেল থানায় বাদী হয়ে ৩০২/২০১/৩৪ দন্ডবিধি ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৭) রংপুরের বদরগঞ্জের রুখিয়া রাউত (২৩) নামে ক্ষুদ্র নৃ-গাষ্ঠির (আদিবাসী) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর নির্দয়ভাব হত্যার অভিযাগ পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার ভোরে পার্বতীপুর মধ্যপাড়ায় ফুলবাড়ী-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কর পাশের শালবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সে রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স ইতিহাস বিভাগর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার ক্ষুদ্র-নৃ গাষ্ঠির দিনেশ রাউত ও মিনতির এর মেয়ে। পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টাবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রুখিয়া।

বান্ধবীদর সঙ্গে একরাত থেকে পরের দিন তার ফিরে আসার কথা ছিল। শেষ বার ফোন মা সুমতিকে বলে যায় ‘মা রংপুর যাছি। চিন্তা করিস না। সকালে আবার ফিরে আসবো।’ এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন সে আর বাড়িতে ফিরে না আসল উদ্বিগ হয় পড়েন পরিবারের লোকজন। অবশেষে পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে পার্বতীপুর উপজলার হরিরামপুর ইউনিয়নর পাঁচপুকুরিয়ার শালবাগান থেকে অজ্ঞাত একটি লাশটি উদ্ধার করে মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি। উদ্ধারের সময় নিজের ওড়না দিয়ে তার হাত-পা গলায় সঙ্গে বাধা ছিল। পরনে ছিল সালায়ার কামিজ। মুখের দাঁতগুলা ভাঙ্গে দেয় দুর্বত্তরা। রক্তাক্ত ও ক্ষত-বিক্ষত ছিল মুখ। দুর্বত্তরা নির্দয়ভাব হত্যার পর অটোচালিত গাড়ীতে করে সেখান লাশটি ফেলে যায়। পরে মধ্যপাড়া পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মঙ্গলবার বিকেলে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালর মর্গে পাঠায়।

এদিকে, লাশের পরিচয় জানতে ওইদিন সন্ধ্যায় দিনাজপুর পুলিশ ব্যুরা অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি তদন্ত দল মৃতের হাতের আঙ্গুলের ছাপ নেয়। এতে তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে চেহারার ছবি মিলে যাওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত হন। পরে জানতে পারেন সে ক্ষুদ্র নৃ-গাষ্ঠি পরিবারর মেয়ে। তার বাড়ি বদরগঞ্জ।

রুখিয়ার বাবা দিনেশ রাউত বলেন, একই এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে আনিছুল রহমান প্রায় সময় রুখিয়াকে উত্যক্ত-বিরক্ত করতো। হোস্টেল থেকে বাড়িতে আসলে সে নানাভাবে বিরক্ত করতো আমার মেয়েকে। এক পর্যায় সে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। গত সোমবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে রুখিয়া তার ডায়েরিতে লিখে গেছে ‘আত্মহত্যা করতে গিয়ে কোনভাবে বেঁচে গেলাম। আজ ৫/১০/২০২০ আমাকে আনিছুল রহমান দূরে কোথাও ডাকছে। যেখানে ও নিজের হাতে আমাকে হত্যা করবে। এ কথা ও নিজ বলেছে ও আমাকে নিজের হাতে হত্যা করবে। আমার সবকিছুর জন্য আনিছুল দায়ী।’ বাড়ি থেকে যাওয়ার কোন এক সময় রুখিয়া ডায়রিতে এসব লিখে রাখে। পড়ার টবিল থেকে রুখিয়ার ডায়রি উদ্ধার করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বদরগঞ্জ উপজলা ক্ষুদ্র নৃ-গাষ্ঠি সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শ্যামল টুডু বলেন, ‘অতিদ্রুত সময়ের মধ্য এ হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চাই। তা না হলে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হব।’ জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবিন্দ্র সরেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অাদিবাসী নারী নির্যাতন, নিপীড়ন ধর্ষণ ও অাদিবাসীদের জমি বেদখলের যে সব ঘটনা ঘটেছে। এতে জড়িতদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী জানাছি।

পার্বতীপুরর মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, নির্দয়ভাব মেয়েটিকে হত্যার পর লাশ ফেলে যায়। এ ঘটনায় সন্দেভাজন আনিছুল হক নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এতে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানতে তদন্ত চলছে। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মডিক্যাল কলজ হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারর কাছ হস্তান্তর করা হয়েছে। পার্বতীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আলামত হিসেবে বেশকিছু জিনিসপত্র তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

দিনাজপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ: নারীসহ গ্রেফতার ২


আনোয়ারুল ইসলাম; দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরলে এক ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে দু’দিন ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। এ ঘটনায় তাদের সহায়তা করেছে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত এক ধর্ষক লিটন (৩০) ও ধর্ষণের সহায়তাকারী এক নারী সানু (২৪)কে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে বিরল থানায় একটি মামলা করেছে।

গ্রেফতার হওয়া ধর্ষক লিটন বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের বুধু মোহাম্মদ বসিরের ছেলে এবং ধর্ষণের সহায়তায়কারী সানু জগৎপুর গ্রামের সুমনের মেয়ে। অপর পলাতক ধর্ষক মোস্তফা পলাশবাড়ী গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে।

বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ.আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, বিরল উপজেলার ১০ নং রানীপুকুর ইউনিয়নের জগৎপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের কিশোরী মেয়েকে ৩ অক্টোবর দুপুরে বাড়ির পাশের পাকা রাস্তা থেকে প্রতিবেশী স্বামী পরিত্যক্তা নারী সানুর সহায়তায় লিটন (৩০) ও মোস্তাফা নামে দুই যুবক অপহরণ করে নিয়ে যায় কাঞ্চনঘাট এলাকায় পিকনিক স্পট” জীবন মহল” এ। সেখানে একটি কক্ষে দুপুর ২ টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে লিটন ও মোস্তফা। এ সময় ধর্ষণে সহায়তা করে সানু। পরে সেখান থেকে শহরে এসে বাসে করে ওই কিশোরীকে তারা ঢাকায় নিয়ে যায়। পর দিন অর্থাৎ ৪ অক্টোবর সকালে ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি হোটেলের কক্ষে ওই কিশোরীকে আবারও লিটন ও মোস্তফা কয়েকবার ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষণে সহায়তা করে সানু। কিশোরীর অবস্থা খারাব হলে ওই দিন রাতেই আবারও বাসে করে দিনাজপুরে নিজ বাড়ির কাছে পৌঁছে দেয় সানু।

বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি ওই কিশোরী তার পিতা-মাতাকে বলে দেয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আযমের সহায়তায় ৫ অক্টোবর বিকেলে মামলা করে ধর্ষিত কিশোরীর পিতা জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশ রাতেই ধর্ষক লিটন ও ধর্ষণে সহায়তাকারী সানুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে পালিয়ে যায় আরেক ধর্ষক মোস্তফা। লিটন ও সানুকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগের মোমপ্রজ্জলন কর্মসূচী পালন

সুকান্ত সরকার, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আলোক প্রোজ্জ্বলন করেছে বশেমুরবিপ্রবির ছাত্রলীগ কর্মীরা।

আজ (বুধবার) ৭অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয় প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী।

প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণকারী এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, “আমরা ছাত্রলীগ পরিবার সব সময়ই ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। বর্তমানে যত গুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেগুলার যেন দ্রুততম সময়ে, স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল এর মাধ্যমে বিচার করা হয় বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগ পরিবার থেকে এই প্রত্যাশা করছি । এজন্য আমরা কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় জয়বাংলা চত্ত্বরে আলোক প্রোজ্জ্বলন এবং মৌন ব্রত পালন করেছি।”

উল্লেখ্য, গতকাল ৬অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে চোখে কালো কাপড় বেধে ধর্ষণ বিরোধী ৭দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ছাগলনাইয়ায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবীতে আলোক প্রজ্জলন

সাখাওয়াত হোসেন ভূঞাঁ, ছাগলনাইয়া উপজেলা প্রতিনিধি: ধর্ষণ, নিপীড়ন সহ নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতায় স্থায়ী অবসানের দাবীতে ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে জিরো পয়েন্টে মোমবাতি আলোক প্রজ্জলন করা হয়। ৭ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় ৭টায় ছাগলনাইয়া জিরো পয়েন্টে এ মোমবাতি আলোক প্রজ্জলনের আয়োজন করা হয়।

উক্ত মোমবাতি আলোক প্রজ্জলনের নেতৃত্বে দেন ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়াউল হক দিদার। এ সময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস খাঁন, আবদুল্লাহ আল মামুন, নাসির উদ্দিন মিলন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক একরাম রাব্বি, আউয়াল হোসেন মজুমদার পারভেজ, রইসুল ইসলাম মজুমদার সজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব চৌধুরী, ছাগলনাইয়া পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী জিয়াউল হক রুবেল, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ননী, পাঠাননগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, রাধানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন রিয়াদ, উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ গালিব হোসেন রাফী, ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, মামুন, আসাদ , তানভীর, ইমরান হোসেন হৃদয়, আশিক চৌধুরী সানি, আশ্রাফ হোসেন প্রমুখসহ ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি/ সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীবৃন্দ।

এ সময় ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তার বক্তব্যে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ধর্ষণ, নিপীড়ন সহ নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতায় স্থায়ী অবসান কল্পে অতি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমার মা, বোন যাহাতে কোন ভাবে আর নির্যাতিত না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আটককৃত আসামীদের দ্রুত ট্রাইবুনালে বিচারের মাধ্যমে দন্ডিত রায় কার্যকর করতে হবে। ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমান থাকলে তাকে ক্রস ফায়ার দিতে হবে।

আমরা ইতি মধ্যে লক্ষ্য করেছি সাধারণ মানুষের যৌক্তিক আন্দোলনগুলোকে বির্তকিত করার জন্য একটি শ্রেনীর কিছু অমানুষ প্রধান মন্ত্রী,. মমতাময়ী নেত্রী, মানবতার মা, মমতাময়ী মা-জননী, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বির্তকিত স্লোগান দেন ও কথা বলেন, আমরা হুশিয়ার করে বলে দিতে চাই, যদি ছাগলনাইয়ার মাটিতে কেউ প্রধানমন্ত্রীকে কুটউক্তি করে কথা বলে তার জিব্বা তাৎক্ষনিক ছিড়ে ফেলা হবে। এ শ্রেনীর মানুষরাই কোন অপরাধির বিচার করতে দেয় না। তাই যৌত্তিক আন্দোলন করুন, আমরা সমর্থন দিবো। কিন্তু আন্দোলন কে ইস্যু করে সরকারের বিরুদ্ধে অযথা কথা বলবেন, তার ফল ভয়াবহ হবে। ছাগলনাইয়ার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর একটি সৈনিক বেঁচে থাকতে মমতাময়ী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কুটউক্তি করে কথা বলতে দিবো না।