মাদক মামলায় জামিন পেলেন রিয়া চক্রবর্তী। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বম্বে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে রিয়ার ভাই শৌভিক চক্রবর্তীর জামিনের আরজি আদালতে খারিজ হয়েছে। সুশান্ত সিংহ রাজপুতকে মাদক সরবরাহে অভিযুক্ত আবদুল পরিহারের জামিনের আরজিও খারিজ হয়েছে।

এর আগে, বোম্বে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছেন রিয়া ও তার ভাই শৌভিক।

এদিন ১ লাখ টাকার বন্ডে অভিনেত্রীর জামিন মঞ্জুর করা হয়। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১০ দিন নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দিতে হবে তাকে। নিজের পাসপোর্টও জমা রাখতে হবে থানায়। পুলিশের অনুমতি ছাড়া গ্রেটার মুম্বইয়ের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। বিদেশ যেতে গেলেও আদালতের অনুমতি নিতে হবে তাকে।

আদালতে রিয়ার জামিন মঞ্জুর হলে অভিনেত্রীর আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে খুশি আমরা। সত্যের জয় হয়েছে। প্রকৃত ঘটনাবলীকেই মেনে নিয়েছে আদালত। আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিচারপতি সারং ভি কোতোয়াল।’

বিনা যুক্তিতে রিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন সতীশ মানশিন্ডে। তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বিনা যুক্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল রিয়াকে। বিনা যুক্তিতে এত দিন হেফাজতে রাখা হয়েছিল তাকে। তিনটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-কে দিয়ে রিয়াকে হেনস্থা করা হয়েছে। এবার তা শেষ হওয়া দরকার। আমরা সত্যটাকে বার করে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বলিউডের উদীয়মান অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। এরপর আদালত তাকে ১৪ দিন কারাগারে থাকার নির্দেশ দেন।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে মাদক মামলায় উঠে আসার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর রিয়াকে গ্রেফতার করে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। তখন ১৪ দিনের জেলহেফাজত হয় রিয়ার। গত ২২ সেপ্টেম্বর সেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল এনসিবি। তাতেই আদালত আরও ১৪ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করে। সে হিসেবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাকে মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা জেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সুশান্তের মৃত্যুর আগে কয়েক মাস ধরে তার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন রিয়া। কিন্তু গত ১৪ জুন বান্দ্রার বাড়ি থেকে সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর রিয়াকেই কাঠগড়ায় তোলে প্রয়াত অভিনেতার পরিবার। রিয়ার নামে মামলা দায়ের করেন সুশান্তের বাবা। রিয়া তার ছেলের টাকা নয়ছয় করেছেন এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুরুতে মহারাষ্ট্র পুলিশের হাতে সুশান্ত মৃত্যুর তদন্তভার থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের তা সিবিআইয়ের হাতে ওঠে। টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখার ভার পড়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *