সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মুছে মুছে বাস ধরা কিংবা ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ক্যাম্পাসের পথে হাটা।অনেক সময় বাসা থেকে মুখ না ধুয়েই ক্যাম্পাসে যাওয়া তারপর ক্যানটিনে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খাওয়া।সারাদিন ক্লাস করা কিংবা ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আড্ডা দেওয়া।একটা ক্লাস বিরতি পেলে ব্যাট-বল নিয়ে খেলার মাঠে ছুটাছুটি করা।এসব ক্যাম্পাস জীবনের নিয়মিত রুটিন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মানে বাড়তি কিছু আনন্দ উপভোগ করা।বন্ধু-বান্ধব,ক্লাস,এসাইনমেন্ট, আড্ডা,খেলাধুলা এসবেই দিন কেটে যায়।তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া যায়না।কারণ প্রতিটা ক্লাসে স্যার-ম্যামের নতুন নতুন লেকচার,এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদিতে ভরপুর থাকে।

তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা।সেখানে ৬৪ জেলার শিক্ষার্থী থাকে।যারা সবাই ক্যাম্পাস কিংবা ক্লাসরুম কে সারাক্ষণ প্রানবন্ত রাখে।হুটহাট করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া,ভালো রেষ্টুরেন্ট এ গিয়ে খাবার খাওয়া,ক্লাস পার্টি ইত্যাদি যেন তাদের নিয়মিত প্লান।
সারাদিন ক্লাস,এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন শেষে সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেওয়াটা অনেক উপভোগ্য।যদি আড্ডার মাঝে মাঝে কেউ গান কিংবা কবিতা শুরু করে দেয় তাহলে আড্ডাটা আরো জমে বেশি।আড্ডা শেষে সবাই বাসে বসে গলা ফাটিয়ে গান গাইবে আর কেউ নাচবে।এমন করতে করতে একসময় রাস্তা শেষ হলে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে চলে যায়।অনেকে নিজ বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে আসে আবার অনেকেই মেসে বা হলে থেকেই পড়াশুনা চালিয়ে যায়।

এভাবেই কাটিয়ে দিতাম ক্যাম্পাসের প্রতিটা দিন।কতইনা সরব ছিল ক্যাম্পাসটা।বন্ধু-বান্ধবের সাথে গান,আড্ডা,খেলাধুলার মাধ্যমে কেটে যেত হাজারো আনন্দক্ষণ মুহুর্ত। কিন্তু আজ ক্যাম্পাসটা বড়ই অসহায়।তার বুকে এখন শিক্ষার্থীরা বিচরণ করেনা।করোনার থাবায় সবকিছু লণ্ডভণ্ড।
মহামারি করোনা ভাইরাস শিক্ষার্থীদের সকল আনন্দকে মাঠি করে দিচ্ছে।সারাদিন আনন্দ-কোলাহলে থাকা ক্যাম্পাসটাও আজ নিরব।
আবারো ফিরে আসুক সেই স্বর্ণালি দিনগুলো।আড্ডায় আর খেলাধুলায় মেতে উঠুক ক্যাম্পাস।

আব্দুল্লাহ আল নোমান
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *